শুরু থেকে রেকর্ডার বাঁশি বাজানো কীভাবে শিখবেন: নতুনদের জন্য ধাপে ধাপে পরিকল্পনা
রেকর্ডার বাঁশি এমন কয়েকটি বাদ্যযন্ত্রের একটি, যাতে শিক্ষক ছাড়া নিজে নিজেই কয়েক সপ্তাহে সহজ সুর বাজানো শেখা যায়। নিচে সেই পরিকল্পনা, যা সংগীত স্কুলে শিশুরা অনুসরণ করে, বাড়িতে অনুশীলনের জন্য মানিয়ে নেওয়া।
ধাপ ১। বাঁশি প্রস্তুত করুন
শুরুর জন্য সাধারণ প্লাস্টিকের সোপ্রানো রেকর্ডার যথেষ্ট — স্কুলের গানের ক্লাসের জন্য যেটা বিক্রি হয়। জেনে নিন এর আঙুল বসানোর ধরন কী: বারোক না জার্মান। এটা বাঁশির গায়ে (B/«Baroque» বা G/«German» অক্ষর) বা নির্দেশিকায় লেখা থাকে। বিস্তারিত — «রেকর্ডার বাঁশি কী» প্রবন্ধে।
ধাপ ২। বাঁশি ধরতে ও ফুঁ দিতে শিখুন
বাঁ হাত সবসময় উপরে, ডান হাত নিচে। ছিদ্র ঢাকা হয় আঙুলের নরম অংশ দিয়ে, ডগা দিয়ে নয়। ফুঁ দিতে হয় ভাবার চেয়ে অনেক আস্তে: কল্পনা করুন নিশ্বাসে ঠান্ডা হাত গরম করছেন। প্রতিটি স্বর শুরু করুন «তু» শব্দাংশ দিয়ে। বিস্তারিত — «বাঁশিতে ঠিকভাবে ফুঁ দেওয়া» প্রবন্ধে আর প্রথম পাঠে।
ধাপ ৩। সঠিক ক্রমে স্বর শিখুন
যারা নিজে শেখে তাদের সবচেয়ে সাধারণ ভুল — নিচের C দিয়ে শুরু করা, কারণ «সপ্তক C দিয়ে শুরু হয়»। আসলে নিচের স্বরগুলোই সবচেয়ে খামখেয়ালি: আটটা ছিদ্রই একটুও ফাঁক না রেখে ঢাকতে হয়। শিক্ষকেরা শুরু করেন বাঁ হাতের স্বর দিয়ে:
| সপ্তাহ | স্বর | কী বাজানো যায় |
|---|---|---|
| ১ | B, A, G | «সিঁড়ি», «গরম গরম পাউরুটি», «জোছনার আলোয়» |
| ২ | + উপরের C ও D | «মেরির ছোট্ট ভেড়া», «ছোট্ট ফার গাছের শীতে কষ্ট» (রুশ গান) |
| ৩ | + নিচের E, D, C, F | «মাঠে বার্চ গাছ দাঁড়িয়ে ছিল» (রুশ লোকগান), «কালিঙ্কা» |
| ৪ ও পরে | F♯, B♭, উঁচু স্বর | «শুভ জন্মদিন», «বনে জন্মেছিল ছোট্ট ফার গাছ» (রুশ গান), «ওগিনস্কির পোলোনেজ» |
সব স্বরের আঙুলের ছক — «রেকর্ডারের আঙুল বসানোর ছক» প্রবন্ধে।
ধাপ ৪। অল্প অল্প করে, কিন্তু রোজ অনুশীলন করুন
৫–৮ বছরের শিশুদের জন্য দিনে ১০–১৫ মিনিট যথেষ্ট, বড় স্কুলছাত্র ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য — ২০–৩০ মিনিট। ছুটির দিনে একবার লম্বা সময়ের চেয়ে রোজ অল্প অল্প অনুশীলন বেশি কাজ দেয়: আঙুল আর শ্বাস নড়াচড়া মনে রাখে পুনরাবৃত্তি দিয়েই।
ধাপ ৫। নিজেকে যাচাই করুন
নিজে অনুশীলনের প্রধান সমস্যা — স্বর ভুল বাজছে কি না বলার কেউ নেই। তিনটি উপায় কাজে লাগবে:
- টিউনার বা আমাদের ট্রেনার — কোন স্বর বাজছে দেখায় আর বলে কোন আঙুল তুলতে বা নামাতে হবে।
- ফোনে রেকর্ড — বাইরে থেকে নিজের বাজনা শুনুন: ফিসফিস আর কিচকিচ শব্দ রেকর্ডে ভালো শোনা যায়।
- পড়ন্ত স্বরের খেলা — স্বর শুধু তখনই গোনে যখন সেটা ঠিকভাবে আর ঠিক দৈর্ঘ্যে বাজে।
নিজে নিজে কি বাঁশি বাজানো শেখা যায়?
হ্যাঁ, বিশেষ করে রেকর্ডারে: আড়বাঁশির মতো এতে ঠোঁটের জটিল ভঙ্গি লাগে না, আর শব্দ প্রথম চেষ্টাতেই বের হয়। শিক্ষক অগ্রগতি দ্রুত করেন আর বসার ভঙ্গি ঠিক করে দেন, কিন্তু প্রথম কয়েক মাস পাঠ আর ট্রেনার নিয়ে বাড়িতেই বেশ শেখা যায়।